পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শওকত আজিজ রাসেল কারাগারে
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, রাত ০৮:৫৪
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ আদেশ দেন।
এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন রাসেল। তাঁর আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়ে জামিন চান। একই সঙ্গে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার আবেদনও করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত এ মামলায় শওকত আজিজ রাসেলসহ আটজনকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং রাসেলের ভাই আশফাক আজিজ রুবেল।
রায়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজকে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দুই ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
একই মামলায় রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকেও ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সব আসামিকে এ ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
এ ছাড়া শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচলের সেক্টর-১-এর ৪০৫ নম্বর সড়কের ০১১ ও ০১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ নেওয়া ও দেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে দুটি প্লট বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছেন।
এমএসি/আরএইচ